Archive - July 14, 2018

1
নিজের শরীর নিয়ে ‘আত্মবিশ্বাসী’ হয়ে ওঠার ১০টি দারুণ কৌশল!
2
‘টেস্টিং সল্ট’ কি আসলেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

নিজের শরীর নিয়ে ‘আত্মবিশ্বাসী’ হয়ে ওঠার ১০টি দারুণ কৌশল!

সমাজে চলতে গেলে কত রকমের সমালোচনাই তো শুনতে হয় আমাদের। আর সবচাইতে বেশি শুনতে হয় নিজের শরীর বা চেহারা নিয়ে সমালোচনা। কত কালো, কত খাটো, কত মোটা, কত চিকন ইত্যাদি শত শত মন্তব্য করে বসে এই সমাজ। এমনকি যাকে চেনেন না জানেন না, এমন লোকেও হয়তো নির্দ্বিধায় মন্তব্য করে বসে আপনার দেহ নিয়ে । পথ চলতে গিয়ে বাজে মন্তব্যের শিকার হন নি কিংবা ফেসবুক-ইন্সটাগ্রামে কুৎসিত মন্তব্য পান নি, এমন মানুষ আজকাল খুঁজলেও মিলবে না। নিজে দেখতে যেমনই হোক না কেন, অন্যের চেহারা বা ওজন নিয়ে কথা বলা যেন লোকের অভ্যাস।

সত্যি করে বলুন, মন কি খারাপ হয় না এমন মন্তব্যে? একটু হলেও কি ভেঙে যায় না আত্মবিশ্বাস? নিশ্চয়ই যায়! কেবল লোকের কটু কথা সইতে না পেরে অনেকেই নিজেকে নিয়ে ভোগেন গভীর হীনমন্যতায়।কেউ কেউ করে বসেন আত্মহত্যাও। কেউ কেউ আবার নিজেকে বন্দী করে রাখেন চার দেয়ালের ঘেরাটোপে, কারো সামনে যেতেই লজ্জিত বোধ করেন।

কিন্তু এখন সময় এই সবকিছুকে পেছনে ফেলে যাবার। লোকে তো বলবেই, লোকের কাজই হচ্ছে বলা। কিন্তু লোকের কথার এত শক্তি কেন হবে যে আপনার মন ভাঙতে পারে? আজকের ফিচারে থাকছে ১০টি দারুণ কৌশল, যেগুলোর নিয়মিত চর্চায় নিজের শরীর নিয়ে সকল হীনমন্যতা দূর করে ফেলতে পারবেন আপনি।

তারা কুৎসিত ভাবনার অধিকারী

একটি কথা নিশ্চিতভাবে জেনে রাখুন- অন্যকে নিয়ে বাজে কথা তারাই বলে, যাদের মন কুৎসিত। আর যাদের মন কুৎসিত, তারা অন্যকে আঘাত করার জন্য বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলে। তাই এদের কথায় একেবারেই কান দেবেন না। কাছের মানুষ হয়েও যারা আপনার চেহারার সমালোচনা করে, জানবেন তারা কখনোই কাছের মানুষ নয়। আপনি যতই চেষ্টা করেন না কেন, যাদের বদনাম করার তারা ঠিকই কিছু না কিছু বাহানা খুঁজেই নেবে।

সুন্দরের সংজ্ঞা ভিন্ন

সৃষ্টিজগতের সকলেই নিজের নিজের মত করে সুন্দর। সৌন্দর্য খুবই আপেক্ষিক একটা ব্যাপার। আমাদের দেশে কালো গায়ের রঙ নিয়ে মানুষের কত আক্ষেপ, অথচ পৃথিবীর অসংখ্য সুপার মডেলের গায়ের রঙ কালো। কেবল কালো কেন, শ্বেতি রোগে আক্রান্ত মডেলের সংখ্যাও এখন কম নয়। আর মোটা নায়িকা কিংবা মডেল তো এখন অহরহ। তাহলে? সারাবিশ্ব এখন নতুন করে ভাবতে শিখেছে। নিজের চারপাশের কিছু নগন্য মানুষের কথায় কান না দিয়ে বড় পরিসরে ভাবুন। দেখবেন চিন্তাধারা বদলে যাবে।

কেবল ওজন কমের জন্যেই ব্যায়াম নয়। ছবি: ইন্টারনেট

দেহ হচ্ছে মন্দিরের মত

নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কেবল ওজন কমানোর জন্যেই ব্যায়াম করতে হবে, এই ধারণা ঠিক নয়। নিয়মিত ব্যায়াম যে কোন মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নিজের শরীরের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে। দেহ যদি মন্দির হয় তবে ব্যায়াম হচ্ছে উপাসনা।

সুস্থতাই জরুরী

আপনি কি সুস্থ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় কোন বড়সড় রোগ নেই আপনার? তাহলে একদিন সময় করে হাসপাতালে চলে যায়। ঘুরে ঘুরে দেখুন মানুষের অসুস্থতা, দেখুন তাদের কষ্ট। দিনশেষে একটি নিরোগ দেহের অধিকারী হবার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে হবে।

নিজের শরীরকে ভালোবাসুন

লোকে বলেছে আপনি অসুন্দর, লোকে বলেছে আপনাকে ভালো দেখায় না- তাই বলে ছেড়ে দেবেন নিজেকে ভালোবাসা? লোকে অসুন্দর বলেছে বলেই নিজেকে নিত্যনতুন রূপে মেলে ধরা জরুরী। সুন্দর পোশাক পরিধান করুন, পছন্দের সাজসজ্জাও ভুলবেন না। সুন্দর পোশাক ও রূপসজ্জা আত্মবিশ্বাস বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে। ভালো একটি পোশাক পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন। নিজেই বুঝতে পারবেন।

নিজেকে গুছিয়ে রাখুন

সর্বদা নিজেকে পরিপাটি রাখুন। একজন পরিপাটি মানুষকে সর্বদাই সুন্দর লাগে দেখতে। আর সুন্দর মানুষকেও খারাপ দেখায় নোংরা থাকার কারণে। আর এই ব্যাপারটি আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।

হাসি আপনার অস্ত্র

হাসুন মন খুলে, হাসুন নির্দ্বিধায়। হাসি হচ্ছে চেহারার সবচাইতে বড় সৌন্দর্য।

কাউকে সুযোগ দেবেন না বাজে কথা বলার। ছবি: ইন্টারনেট

সুযোগ দেবেন না

আরেকজনকে কখনোই সুযোগ দেবেন না আপনাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করার। যত আপন মানুষই হোক না কেন, সুযোগ দেবেন না। কেউ যখন আপনার চেহারা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করবে, আপনি খুব শান্ত ভাষায় বলুন- “তোমার মাঝেও নানান ত্রুটি আছে, কিন্তু আমি সেটা বলা রুচিশীল কাজ মনে করিনি/ আমার চেহারা নিয়ে কথা বলার আগে আয়না দেখলে পারতে/ আমার তো চেহারা খারাপ, কিন্তু তোমার খারাপ মন” ইত্যাদি। অর্থাৎ নিজের মত করে একটি বাক্য সাজিয়ে নিন এবং সেটা তাঁর মুখের ওপরেই বলে দিন যেন দ্বিতীয়বার অপমান করার সাহস তার না হয়। চুপচাপ অপমান মেনে নেবেন না। নিজের ত্রুটি সামনে চলে এলে কেউ-ই আর অন্যের ত্রুটি নিয়ে কথা বলার সাহস করতে পারে না।

সোশ্যাল মিডিয়াকে না

আপনি সুন্দর, সেটা প্রমাণ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নেবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোষ্ট করে অনেক লাইক পাবার পর মন যেমন ভালো লাগে, তেমনই খারাপ কমেন্ট পেলে মুহূর্তে মন ভেঙে যায়। সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে বিচার করার কেউ না, আপনাকে সুন্দর-অসুন্দর বলার কেউ না। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রশংসা বা বিরূপ মন্তব্যে কিছুই যায় আসে না।

রূপে নয়, গুণে বড়

নিজের চেহারাকে অধিক গুরুত্ব দেবেন না। দেবার কিছু নেইও। বরং এমন কিছু গুণ বা যোগ্যতা অর্জন করুন, যেন আপনার চেহারার চাইতেও বহুগুনে বড় হয়ে ওঠে আপনার গুণ। আজ যারা চেহারার সমালোচনা করছে, কাল তারাই দেখবেন গুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে।

একটি সহজ সত্য জেনে রাখুন- মানুষ যাদেরকে ভালোবাসে, তাদের সবকিছুই সুন্দর মনে হয়। আর যাদেরকে অপছন্দ বা ঈর্ষা করে- তাদের সবকিছুই মনে হয় সুন্দর। আর এই কারণেই বলা হয় সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে দেখার মানুষের চোখে।

‘টেস্টিং সল্ট’ কি আসলেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

 

কয়েক দশক ধরেই মনোসোডিয়াম গ্লুটামেটকে (এমএসজি) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে ধরা হয়। একে আমরা ‘টেস্টিং সল্ট’ নামে চিনি। বলা হয়, তা সাধারণ লবণের তুলনায় ক্ষতিকর। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেছে, তা সাধারণ লবণের তুলনায় ক্ষতিকর নয়, এমনকি তা ডায়েটের জন্য উপকারী। খবর আইএফএলসায়েন্স

অনেকেই দাবি করেন, টেস্টিং সল্ট দেওয়া খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তা আসলেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং ইতিহাসবিদরা দেখেন, বর্ণবৈষম্যের কারণেই জাপানে উদ্ভূত এই লবণকে খারাপ চোখে দেখে আমেরিকান এবং ইউরোপিয়ানরা।

নেচার নিউরোসাইকোফার্মাকোলজি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, খাওয়ার আগে টেস্টিং সল্ট মেশানো স্যুপ পান করলে কম ক্যালোরি খাওয়া হয়। অন্যদিকে যারা টেস্টিং সল্ট ছাড়া একই ধরনের স্যুপ পান করেন, তাদের খাওয়া বেশি হয়ে যায়। তবে ঠিক কেন এ ঘটনা ঘটে তা জানা যায়নি।

১৮-৩০ বছর বয়সী ৩০ জন নারীর ওপর এই পরীক্ষা করেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকাল সেন্টারের ড. মিগুয়েল আলোনসো-আলোনসো। তাদেরকে বুফে খেতে দেওয়া হয়। এরপর তাদের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য কম্পিউটারাইজড আই-ট্র্যাকিং এবং মস্তিষ্কের নিউরোইমেজিং ব্যবহার করা হয়।

ড. মিগুয়েল জানান, যারা টেস্টিং সল্ট দেওয়া স্যুপ খেয়েছিলেন তারা বুফে থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেন। বিশেষ করে তারা উচ্চমাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার কম খান। তারা নিজের খাবারই মন দিয়ে খান, অন্য খাবারের দিকে আকর্ষিত হন না।  তাদের মস্তিষ্কেও সক্রিয়তা বেশি দেখা যায় সেই অংশে যা খাদ্য গ্রহণের সময়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

গবেষকরা ধারণা করেন, পেটে টেস্টিং সল্ট চলে গেলে শরীর তা বুঝতে পারে এবং এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের দিকে পরিচালিত হয়।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে যারা স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে উৎসাহী, তারা উপকৃত হতে পারেন। তবে মাত্র এক বেলার খাবারের ওপরে এই গবেষণা করা হয়। তাই কতক্ষণ পর্যন্ত টেস্টিং সল্টের এই প্রভাব বজায় থাকবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হয়নি।

কয়েক দশক ধরেই মনোসোডিয়াম গ্লুটামেটকে (এমএসজি) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে ধরা হয়। একে আমরা ‘টেস্টিং সল্ট’ নামে চিনি। বলা হয়, তা সাধারণ লবণের তুলনায় ক্ষতিকর। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেছে, তা সাধারণ লবণের তুলনায় ক্ষতিকর নয়, এমনকি তা ডায়েটের জন্য উপকারী। খবর আইএফএলসায়েন্স

অনেকেই দাবি করেন, টেস্টিং সল্ট দেওয়া খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তা আসলেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং ইতিহাসবিদরা দেখেন, বর্ণবৈষম্যের কারণেই জাপানে উদ্ভূত এই লবণকে খারাপ চোখে দেখে আমেরিকান এবং ইউরোপিয়ানরা।

নেচার নিউরোসাইকোফার্মাকোলজি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, খাওয়ার আগে টেস্টিং সল্ট মেশানো স্যুপ পান করলে কম ক্যালোরি খাওয়া হয়। অন্যদিকে যারা টেস্টিং সল্ট ছাড়া একই ধরনের স্যুপ পান করেন, তাদের খাওয়া বেশি হয়ে যায়। তবে ঠিক কেন এ ঘটনা ঘটে তা জানা যায়নি।

১৮-৩০ বছর বয়সী ৩০ জন নারীর ওপর এই পরীক্ষা করেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকাল সেন্টারের ড. মিগুয়েল আলোনসো-আলোনসো। তাদেরকে বুফে খেতে দেওয়া হয়। এরপর তাদের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য কম্পিউটারাইজড আই-ট্র্যাকিং এবং মস্তিষ্কের নিউরোইমেজিং ব্যবহার করা হয়।

ড. মিগুয়েল জানান, যারা টেস্টিং সল্ট দেওয়া স্যুপ খেয়েছিলেন তারা বুফে থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেন। বিশেষ করে তারা উচ্চমাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার কম খান। তারা নিজের খাবারই মন দিয়ে খান, অন্য খাবারের দিকে আকর্ষিত হন না।  তাদের মস্তিষ্কেও সক্রিয়তা বেশি দেখা যায় সেই অংশে যা খাদ্য গ্রহণের সময়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

গবেষকরা ধারণা করেন, পেটে টেস্টিং সল্ট চলে গেলে শরীর তা বুঝতে পারে এবং এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের দিকে পরিচালিত হয়।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে যারা স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে উৎসাহী, তারা উপকৃত হতে পারেন। তবে মাত্র এক বেলার খাবারের ওপরে এই গবেষণা করা হয়। তাই কতক্ষণ পর্যন্ত টেস্টিং সল্টের এই প্রভাব বজায় থাকবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হয়নি।

Copyright © 2014. Created by whitepixel. Powered by Whitepixelbd.com