Breaking News

৫টি টেলিস্কোপের সাহায্যে পাওয়া গেল ক্র্যাব নেবুলার ছবি






  • ক্র্যাব নেবুলাটি মহাজগতের অনন্য এক জ্যোতিষ্ক। তার মতো আর কোনো জ্যোতিষ্ক নেই বললেই চলে। বিশাল এক সুপারনোভা বিস্ফোরণে তার জন্ম। আর ১০৫৪ সালের এই বিস্ফোরণের পর থেকেই তাকে চোখে চোখে রাখছেন গবেষকেরা। সম্প্রতি ৫টি আলাদা আলাদা টেলিস্কোপের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা ক্র্যাব নেবুলার সবচাইতে বিস্তারিত, চোখ ধাঁধানো ছবিটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

    অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জ্যোতির্বিদরা এই নেবুলার জটিল কাঠামো বর্ণনা করেন। এই নেবুলাটি আমাদের থেকে ৬,৫০০ আলোকবর্ষ দূরে। আমরা আজ এর যেমন কাঠামো দেখি, ধারণা করা হয় তার কিছু কিছু তৈরি হয়েছিল সুপারনোভা বিস্ফোরণের আগেই। যেমন এর কেন্দ্রের ডান ও বাম দিকের দুইটি কাঠামো। এছাড়াও আছে প্লাজমা দিয়ে তৈরি কিছু লুপ। এগুলো তৈরি হয়েছে দ্রুত গতির কণিকা এবং নেবুলার প্রচন্ড শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের প্রতিক্রিয়ায়।

    বিভিন্ন ওয়েভলেংথে নেওয়া হয় ক্র্যাব নেবুলার নতুন কিছু ছবি। এগুলো প্রচুর পরিমাণে নতুন তথ্য সরবরাহ করছে। বছরের পর বছর ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরেও এর ব্যাপ্রে অনেক কিছুই জানার আছে আমাদের, এক বিবৃতিতে জানান এই গবেষণাপত্রের মূল লেখক, ইউনিভার্সিটি অফ বুয়েনস এয়ার্স এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক রিসার্চ এর গ্লোরিয়া ডাবনার।

    ভেরি লার্জ অ্যারে (VLA), স্পিটজারের ইনফ্রারেড ডাটা, হাবলের দৃশ্যমান (অপটিক্যাল) কিছু চিত্র, XMM-Newton এর আলট্রাভায়োলেট চিত্র, এবং চন্দ্র এর এক্স-রে এমিশন- এই ৫টি টেলিস্কোপের তথ্য থেকে তৈরি করা হয় মূল ছবিটি।  

    প্রতিটি উৎস থেকে নেওয়া আলাদা আলাদা ইমেজ থেকে পাওয়া চিত্রটি। ছবি: সংগৃহীত

    শুধু তাই নয়, এই VLA, হাবল এবং চন্দ্র- এই ৩টি টেলিস্কোপের নেওয়া ছবিগুলো ছিল নভেম্বর ২০১২ সালের। ফলে প্রায় একই সময়ে নেওয়া হয় চিত্রগুলো। এসব ছবি ব্যবহার করে গবেষকেরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, এই নেবুলার কমপক্ষে দুইটি সিনক্রোট্রন রেডিয়েশনের উৎস আছে।

    এই রেডিয়েশন তৈরি হচ্ছে ক্র্যাব নেবুলার শক্তি, মিলিসেকেন্ড পালসারটি থেকে। যখন সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটে, তখন সে ভীষণ ঘন একটি নিউট্রন স্টার রেখে যায়। এর চৌম্বক ক্ষেত্রে প্রচন্ড শক্তিশালী এবং সে এত দ্রুত ঘূর্ণন করে যে প্রতি ৩৩ মিলিসেকেন্ডে রেডিয়েশন ছেড়ে দেয়। এটাই ক্র্যাব নেবুলার পালসার। আমাদের সূর্যের ৪.৬ গুণ ভর এই পালসারের, কিন্তু জ্যোতিষ্কদের তুলনায় নিতান্তই ক্ষুদ্র আকারের, মূলত ২৮ থেকে ৩০ কিলোমিটার তার ব্যাস। পুরো ক্র্যাব নেবুলার ব্যাস ৫ আলোকবর্ষের মত, সেখানে এই পালসারটি সাগরের মাঝে এক ফোঁটা জল বলা যায়। ১১শ শতাব্দীতে চৈনিক জ্যোতির্বিদেরা প্রথম এর উৎস সুপারনোভাটি লক্ষ্য করেন, আর তখন থেকেই এই পালসার নেবুলা এবং সুপারনোভার ধ্বংসাবশেষ গবেষকদের চিন্তার খোরাক হয়ে আছে।

    সুত্র: আই এফ এল সায়েন্স