Breaking News

লাভ ডায়েরি: শুরুতে না বললেও পরে হাসিমুখেই বিয়েতে সায় দিয়েছিল সেদিন মেয়েটি…




  • পাঠকের জন্য, পাঠকেরই ভালোবাসার কাহিনী নিয়ে শুরু হলো “প্রিয় লাভ ডায়রি“। মিষ্টি একটা প্রেম বা বিয়ের গল্প সবার জীবনেই থাকে। আপনারও কি আছে এমনই একটি দুষ্টু-মিষ্টি ভালোবাসার কাহিনী? তাহলে দারুণ কিছু ছবি সহ যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে। আপনার ভালোবাসার সেই মিষ্টি কাহিনী ছাপা হবে প্রিয়.কমের পাতায়, জানবে সারা বিশ্ব। নিজের ভালোবাসার কথা সকলকে জানাতে চাইলে ছবি সহ যোগাযোগ করুন আমাদের ফেসবুক পেজের ইনবক্সে। পেজ লিঙ্ক-https://www.facebook.com/priyolife

    হলিউড-বলিউডের মতো ঝাঁ-চকচকে একটা জীবন কী সবার থাকে? থাকে না। আর তেমন ড্রামাটিক প্রেমের কাহিনীও থাকে না সবার। এখনো এদেশের অনেক মেয়ের বিয়ের আগে থাকে না কোনো প্রেমের ঘটনা, খুব কম সময়ের পরিচয়েই সারা জীবনের জন্য গাঁটছড়া বাঁধতে হয় আরেকটি মানুষের সাথে। সুখি হবার আশা নিয়েই দুটি মানুষ শুরু করে পথচলা। এমনই খুব পরিচিত এক জীবনের গল্প বলবো আজ, যেখানে শুরুতে না বললেও একটা সময়ে হাসিমুখেই বিয়েতে সায় দিয়েছে এক নারী, শক্ত হাতে ধরেছে এক পুরুষের হাত।

    হলুদের ছবি ০১

    গল্পটা ভালোবাসার হলেও এর শুরুটা কিন্তু ক্যারিয়ার দিয়ে। মাস্টার্স শেষ করে সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন হোসনে আরা দিলজাহান, ওরফে অভি। পড়াশোনা শেষ হলে সাধারণত যা হয়, বিয়ের কথা বারবার বলতে থাকেন বাবা-মা। কিন্তু কখনোই কোনো সম্পর্কে জড়ায়নি সে, বিয়ে ব্যাপারটাকেও তার তেমন সুবিধার মনে হত না। বারবারই এড়িয়ে যায় অভি। কিছুদিন আগে বিদেশে স্কলারশিপের জন্য অ্যাপ্লাই করে সেটা পেয়েও যায়। এটা বাবা-মাকে জানাতেই এবারে বেঁকে বসেন তারা। কিছুতেই বিয়ে না করে বাইরে যাওয়া যাবে না! অন্তত কিছুদিন হলেও সংসার করে যেতে হবে।

    অনেকটা অভির মতের বিপক্ষেই ছেলে দেখতে শুরু করেন তারা। একটার পর একটা বায়োডাটা পাঠাতে থাকেন অভিকে, বেছে নিতে বলেন কোনো একজনকে। বিরক্ত হবে নাকি হাসবে ভেবে পায় না অভি। এখানেই গল্পে প্রবেশ করেন এমদাদুল ইসলাম, পূবালী ব্যাঙ্কের সিনিয়র অফিসার।

    বিয়ের ছবি

    অভিকে প্রথম দেখায় ভালো লেগে যায় তার। কোনো এক সুত্রে ইমেইল যোগাড় করে নিজের একটা সিভি পাঠান তাকে। কিন্তু সেই সিভির মেইল খুলে অভি হতভম্ব! দেখে মনে হচ্ছে কেউ কুচি কুচি করে সিভির কাগজটা কেটে তারপরে স্ক্যান করে তা পাঠিয়েছে। এমনিতেই বাসায় বিয়ের চাপে মেজাজ খারাপ, তার ওপরে এই কিম্ভুতকিমাকার সিভি! কড়া করে বকাঝকা করলো তাকে অভি। এমন সিভি কেউ কাউকে পাঠায় নাকি?

    এরপর মায়ের সাথে কথা বলতে গিয়ে হাসতে হাসতেই সেই অদ্ভুত সিভির কাহিনী বললো অভি। মা হাসতে হাসতে বললো, একবার চান্স দিয়ে দেখো বেচারাকে! কথাটার কোন উত্তর না দিলেও একেবারে ফেলে দিতে পারল না সে। নিজেকে খুব বেশি চিন্তাভাবনার সুযোগ না দিয়েই এমদাদুল ইসলামকে জানালো সে দেখা করতে চায়।

    দম্পতি

    এরপরের গল্পটা কেবলই ভালোলাগার। দেখা করার পর দুজনেরই ভালো লেগে যায় একে অপরকে। এবার আর দেরি নয়। জুলাইয়ের ২১ তারিখে বিয়ে ঠিক হয়ে যায় তাদের। সিরাজগঞ্জে বেড়ে উঠেছিল অভি, সেখানেই ৩ আগস্ট হলুদ আর ৪ আগস্ট বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে যায়। বৌভাতটা এখনো হবার অপেক্ষায়। আর অভির এখন কেমন মনে হচ্ছে? না, এখন আর বিয়ে ব্যাপারটাকে খুব একটা খারাপ মনে হচ্ছেনা তার! প্রিয়.কমের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এই নতুন দম্পতিকে।