Breaking News

বউয়ের বান্ধবীর ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, অতঃপর গ্রেফতার



  • ইন্টারনেটে সহধর্মিনীর বান্ধবীর ব্যক্তিগত কিছু ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার নামে চাঁদা দাবি করায় টাঙ্গাইলের মধুপুর রক্তিপাড়া এলাকা থেকে হৃদয় নায়েম নামের এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন বা ক্র্যাফের সহায়তায় আজ বুধবার টাঙ্গাইল থেকে নায়েমকে গ্রেফতার করে গুলশান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

    গত ২১ জুলাই হৃদয় নায়েমের নামে গুলশান থানায় আইসিটি অ্যাক্ট ৫৭ এবং ৩৮৫-৩৮৬ ধারায় মামলা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এই মামলাটি দেখেছেন গুলশান থানার সাব ইন্সপেক্টর তাপস কুমার ওঝা। তিনি প্রিয়.কম-কে বলেছেন, গ্রেফতার হওয়ার পর হৃদয় তার সহধর্মিনীর বান্ধবীর ব্যক্তিগত কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছে।

    গুলশান থানা পুলিশ জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত দুই মাস আগে। কলেজছাত্রী প্রিয়াংকা (ছদ্মনাম) তার আইপ্যড ও আইফোনে কিছু একাউন্ট খোলার জন্য ডিভাইসগুলো তার বান্ধবীর স্বামী নায়েমকে। পরে ডিভাইসগুলো ফেরত চাইলে তা ফেরত দিতে টালবাহানা করে কিছুদিন পরে ডিভাইসগুলো ফেরত দেয় নায়েম। কিন্তু এর মাঝে ভিক্টিমের ডিভাইস থেকে তার কিছু ব্যক্তিগত ছবি নিজের কাছে রেখে দেয় সে এবং ভিক্টিমের কাছে টাকা দাবি করে।

    টাকা না দিলে ব্যক্তিগত ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় নায়েম। ব্লাকমেইলের শিকার হয়ে ভিক্টিম মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরে। এমনকি বিষয়টি আত্মহত্যার করার দিকে চলে যায়। পরে কোনো সমাধান না পেয়ে ভিক্টিম বিষয়টি তার ভাইকে জানালে তার ভাই নায়েমের দাবি মোতাবেক প্রথমে ৫ হাজার এবং পরে ২ হাজার টাকা বিকাশে প্রেরণ করেন ।

    এতেও সে ক্ষান্ত দেয়নি। কিছুদিন পরে সে আবারও ১ লাখ টাকা দাবি করে এবং ২৫ জুলাই শেষ সময় বেধে দেয়। এই তারিখের মধ্যে টাকা না দিলে ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। এর মধ্যে প্রতিনিয়ত ভিক্টিমকে ছবি ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকিসহ ফোনে ও ফেসবুকে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে। একইসঙ্গে সে হুমকি দেয় বলে তাকে কেউ খুঁজে বের করতে পারবে না।

    এরপর ভিক্টিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশনের (ক্র্যাফ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দ্রূত ক্রাফের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অন্যান্য সোর্স থেকে সাসপেক্টের অবস্থান ও তার আবাস্থলের ঠিকানা নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে ক্রাফের সহায়তায় গুলশান থানায় ২১ জুলাই আইসিটি এক্ট ৫৭ এবং ৩৮৫-৩৮৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

    ক্র্যাফের ভিক্টিম সাপোর্ট ডিভিশন থেকে মমিন হোসেন প্রিয়.কম-কে বলেছেন, যেহেতু ২৫ জুলাই টাকা পাঠানোর শেষ তারিখ ছিল; তাই সকল দিক বিবেচনা করে ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার আগেই গুলশান থানা পুলিশের সহায়তায় ক্রাফের ভিক্টিম সাপোর্ট ডিভিশনের মেম্বারসহ ২৫ তারিখ রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অতপঃপর টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকা থেকে তাকে আজ বুধবার সকালে গ্রেফতার করে গুলশান থানায় নিয়ে আসা হয়।

    গুলশান থানার সাব ইন্সপেক্টর তাপস কুমার ওঝা প্রিয়.কম-কে জানিয়েছেন, হৃদয় নায়েমের বয়স মাত্র ১৭ বছর। উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময়েই সে পালিয়ে বিয়ে করেছে। ১৮ বছরের নিচে বয়স হওয়ার কারণে গণমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছেন।