Breaking News

পুরুষেরা কেন নারীদের চেয়ে বেশি দ্রুত দৌড়ান?




  • দৌড়ানো এমন একটি ক্রীড়া যা নারী এবং পুরুষ উভয়েই উপভোগ করে, সেটা ৫ কিলোমিটারের দৌড় প্রতিযোগিতাই হোক অথবা ম্যারাথন বা কোন দল বা দেশের হয়ে প্রতিযোগিতাই হোক না কেন। ভেন্যু যেটাই হোক না কেন নারীদের চেয়ে পুরুষদেরই বেশি দ্রুত দৌড়াতে দেখা যায়।

    নারী এবং পুরুষ উভয়েই কঠোর পরিশ্রম করে প্রশিক্ষণ নেয়, তাহলে কেন নারীদের চেয়ে পুরুষেরা দ্রুত দৌড়ায়? এমনকি বিশ্বের দ্রুততম মানব ১০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বের দ্রুততম মানবীর চেয়ে ১ সেকেন্ড দ্রুত দৌড়ায়: উসাইন বোল্ট ৯.৫৮ সেকেন্ডে সম্পন্ন করে, অন্যদিকে প্রয়াত ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নার এটা করেন ১০.৪৯ সেকেন্ডে।

    চিকিৎসক লাইভ সায়েন্সকে বলেন, এর বহুবিধ কারণ থাকতে পারে, কিন্তু হরমোন এবং শরীরের আকার এতে অনেক ভূমিকা রাখে।

    হেলথ লাইন এর মতে, ছেলে এবং মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর আগে তাদের শরীর একই রকম থাকে। বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের আধিক্য তৈরি হয়। পূর্ণবয়স্ক হতে হতে কিছু পুরুষের টেস্টোস্টেরন ২০ গুণ বৃদ্ধি পায় নারীদের তুলনায়।

    সোসাইটি অফ এন্ডোক্রাইনোলজি এর মতে, টেস্টোস্টেরন বিভিন্ন ধরণের ভূমিকা রাখে যেমন- শরীরকে নতুন কোষ তৈরি করতে বলা, হাড় ও পেশীকে শক্তিশালী রাখা এবং বৃদ্ধিকে উৎসাহিত  করা ইত্যাদি।  

    ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড হেলথ কেয়ার এর প্রাইমারী কেয়ার স্পোর্টস মেডিসিন ফিজিশিয়ান ডা. এমিলি ক্রাউস বলেন, ‘কারণ নারীদের শরীরে কম টেস্টোস্টেরন উৎপন্ন হয়, তাই পেশীর ক্ষেত্রে তারা প্রতিকূল অবস্থায় থাকে’। ‘পুরুষের পেশীর আয়তন বেশি হয়’।

    ক্রাউস বলেন, পুরুষের পায়ে ৮০ শতাংশ পেশী থাকে, অন্যদিকে নারীদের পায়ে থাকে ৬০ শতাংশ পেশী। অতিরিক্ত পেশী তাদেরকে দ্রুত দৌড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও পুরুষের পেশীর তন্তুর দ্রুত আকস্মিক টান দেয়ার প্রবণতা থাকে বলে তারা নারীদের তুলনায় দ্রুত দৌড়াতে পারে।

    নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন বেশি থাকে পুরুষের তুলনায়, যা তাদের শরীরের চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এটা দৌড়ানোর পারফরমেন্সের অসুবিধার সৃষ্টি করে।

    মেডিসিন এন্ড সায়েন্স ইন স্পোর্টস এন্ড এক্সারসাইজ নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত ১৯৯৮ সালের গবেষণা মতে, আরেকটি ফ্যাক্টর হচ্ছে শরীরের আকার। গড়ে পুরুষের তুলনায় নারীদের ফুসফুস ছোট হয়, অর্থাৎ তাদের সর্বোচ্চ অক্সিজেন গ্রহণ (VO2 max) কম হয়। প্রতি মিনিটে বসে থাকা অবস্থায় একজন নারীর শরীরে ৩৩ মিলিমিটার অক্সিজেন সঞ্চালিত হয় তার শরীরের ভরের প্রতি কিলোগ্রামের জন্য। অন্যদিকে বসে থাকা অবস্থায় একজন পুরুষের ৪২ মিলিমিটার অক্সিজেন সঞ্চালিত হয় তার শরীরের ভরের প্রতি কিলোগ্রামের জন্য।  

    অভিজাত দৌড়বিদ গণের VO2 max উচ্চতর থাকে, কিন্তু পরুষের নারীদের চেয়ে বেশীই থাকে। ক্রাউস বলেন, নারীদের তুলনায় পুরুষের অক্সিজেন উৎপাদনের মাত্রা বেশি। তাই নারীদের পেশীতে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পরিশ্রম করতে হয়।

    পুরুষের তুলনায় নারীর হৃদপিণ্ড ছোট হয়। নারীদের পেশীতে কম রক্ত ও কম অক্সিজেন পৌঁছায়। ক্রাউস বলেন, নারীদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকে, এই লাল রক্ত কণিকার প্রোটিন যা পেশী সহ শরীরের কোষ-কলায় অক্সিজেন সরবরাহ করে।  

    বায়োমেকানিক্স

    জন্স হপকিন্স মেডিসিন এর ওমেন্স স্পোর্টস মেডিসিন প্রোগ্রাম এর পরিচালক এবং অর্থোপেডিক সার্জারির সহকারী অধ্যাপক ডা. মিহো তানাকা বলেন, বায়োমেকানিক্স অনুযায়ী নারীর তুলনায় পুরুষের পা লম্বা হয়, অর্থাৎ তাদের পেশীর জন্য অনেক বেশি স্থান থাকে বলে তারা লম্বা পা ফেলতে পারে।

    তানাকা বলেন, পুরুষের চেয়ে নারীর কোমর চওড়া হয় বলে তারা পুরুষের মত দক্ষ ভাবে দৌড়াতে পারে না। এর অর্থ এই নয় যে, নারীর কোমর প্রশস্ত হয় বলেই তার দৌড়াতে পারে না। কিন্তু গড়ে পুরুষেরা কেন নারীদের তুলনায় দ্রুত দৌড়ায় তার অনেক ফ্যাক্টরের মধ্যে একটি এটি।

    সূত্র: লাইভ সায়েন্স