Breaking News

‘ধর্ম’ নেই ধর্মশালার বৃষ্টির




  • আকাশের কোল ঘেসে যে মেঘ ধর্মশালা পাড়ি দেয় সে মেঘের দেখা হয় এখানকার উঁচু উঁচু পাহাড়গুলোর সাথেও। কখনো হয় লুকোচুরি কখনো লাগে টক্কর। একটু দূরে আছে হিমালয়ের পর্বতশৃঙ্গও। সেখানে আটকে যায় মেঘও। ঘনিভূত হয়ে বরফে রুপ নিলে সেটাই হিম হাওয়া হয়ে নেমে আসে ধর্মশালায়। যে কারণে এখানকার পরিবেশ বেশিরভাগ সময়ে ঠান্ডাই থাকে।

    ধর্মশালার আকাশ হুটহাট করে কালো মেঘে ঢেকে যায়, আবার নীল হতেও দেরি লাগে না। তবে ঝুম বৃষ্টি এখানে সেভাবে দেখা যায় না। কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে থাকলেও সময় পেরোলে সুর্য্য ঠিকই উঁকি দেয়। পাহাড়, সবুজ আর আঁকাবাঁকা পথের বাঁকে বাঁকে অপরুপ সৌন্দর্য্যে সেজে ওঠে গোটা ধর্মশালা। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসতেই যেন ধর্মশালার আকাশ বেরসিক হয়ে উঠেছে। রং বদলাদে সময় নিচ্ছে না এতোটুকুও। এই রোদ তো এই বৃষ্টি। যেন ধর্মই হারিয়ে বসেছে ধর্মশালার বৃষ্টি।

    ৮ মার্চ শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেঘের লুকোচুরি থাকলেও বৃষ্টির হানা দেখা যায়নি। রৌদ্রও খেলা করেছে মাঝে মাঝে। কিন্তু ১১ মার্চ আসতেই যেন সব ভুলে ‘বাউন্ডুলে’ হয়ে উঠলো ধর্মশালার আকাশ। তাকে থামানো গেলো না কোনো দোহাই দিয়েই।

    ভোর থেকেই বৃষ্টির হানা। সকাল পর্যন্ত চললো থেকে থেকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আকাশ একটু ক্ষান্ত দিলো। মনে হচ্ছিল মেঘের চোখ রাঙ্গানি হয়তো থামবে এবার। কিন্তু তা আর হলো না। দুপুর থেকে আবারো বৃষ্টির দাপট। পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা ধর্মশালার পুরো মাঠ তখন কভারে ঢাকা। অপেক্ষায় দুই দল- ওমান ও নেদারল্যান্ডস। কিন্তু এই দুই দলের অপেক্ষা ভেসে গেল বৃষ্টি বানেই। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর উপায় না দেখে ম্যাচটি পরিত্যক্তই ঘোষণা করে আইসিসি।

    পরের ম্যাচে রাত আটটায় আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষনই মিলছিল না। তবে ধোঁকা খেতে হচ্ছিল সবাইকে। মনে হচ্ছিল এই বুঝি থেমে গেলো, কিন্তু পরক্ষণেই হাজির বৃষ্টি। এভাবেই চলে প্রায় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত। বিরতি পেয়েই মাঠ শুকানোর কাজ শুরু করে দেয় ধর্মশালা স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ডসম্যানরা। ছয়টি সুপার ছপার চুষে নিতে থাকে মাঠের পানি। কাজ যখন প্রায় শেষের দিকে কয়েক মিনিটের জন্য আবারো বৃষ্টির হানা। এতে অবশ্য খুব বেশি সমস্যা হয়নি। একপর্যায়ে মাঠ খেলার উপযোগী হয়ে উঠলো। প্রথমে জানানো হলো ১৩ ওভারের খেলা। কিন্তু আবারো বৃষ্টি ফিরে এসে গিলে নেয় আরো এক ওভার। অবশেষে ১২ ওভারের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।  - See more at: http://www.priyo.com/2016/Mar/12/202368-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B0#sthash.FuYCUiSS.dpuf

    পরের ম্যাচে রাত আটটায় আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষনই মিলছিল না। তবে ধোঁকা খেতে হচ্ছিল সবাইকে। মনে হচ্ছিল এই বুঝি থেমে গেলো, কিন্তু পরক্ষণেই হাজির বৃষ্টি। এভাবেই চলে প্রায় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত। বিরতি পেয়েই মাঠ শুকানোর কাজ শুরু করে দেয় ধর্মশালা স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ডসম্যানরা।

    ছয়টি সুপার ছপার চুষে নিতে থাকে মাঠের পানি। কাজ যখন প্রায় শেষের দিকে কয়েক মিনিটের জন্য আবারো বৃষ্টির হানা। এতে অবশ্য খুব বেশি সমস্যা হয়নি। একপর্যায়ে মাঠ খেলার উপযোগী হয়ে উঠলো। প্রথমে জানানো হলো ১৩ ওভারের খেলা। কিন্তু আবারো বৃষ্টি ফিরে এসে গিলে নেয় আরো এক ওভার। অবশেষে ১২ ওভারের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।

    Bangladesh's Tamim Iqbal Khan hits a boundary during their T20 World Cup Cricket tournament match against Ireland at the HPCA stadium in Dharamsala on March 11, 2016. The match is suspended following rain.  / AFP / STR        (Photo credit should read STR/AFP/Getty Images)

    বৃষ্টির পর ব্যাট করতে নেমে ধর্মশালায় ঝড়ই বইয়ে দেন ওপেনার তামিম ইকবাল। সাথে সঙ্গ দিলেন সৌম্য সরকারও। পাওয়ার প্লের ৪ ওভারেই ৫২ রান। চার ওভার পেরোতে আবারো বৃষ্টি। তবে তামিম ঝড়ের সাথে ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছিলো না বৃষ্টি। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মাঝেই টর্নেডো বইয়ে দিচ্ছিলেন তামিম ইকবাল। ৪৭ রান করে তামিম ফিরে গেলেও ৮ ওভারে ততোক্ষণে বাংলাদেশের স্কোরকার্ডে ৯২ রান। কিন্তু বাংলাদেশের এ সাফল্যে যেন আবারো তেতে গেলো আবহাওয়া।

    বাংলাদেশ যখন সবচেয়ে কম ওভারে ১০০ পূরণের পথে ফিরে এলো বৃষ্টি। প্রথমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা হলো। কিন্তু বৃষ্টির হাবভাব দেখে এরপর আর খেলা মাঠে গড়ানোর কথা মাথায় আনেনি কেউ। ম্যাচ পরত্যিক্ত। দারুণ ব্যাটিং করেও এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এরপর কেবল বৃষ্টিরই রাজত্ব। বৃষ্টি যে শুরু হয়েছে থামার বালাই নেই। ঝুম দৌড়ে রাত দুটো।

    বৃষ্টিতে মাঠ বাঁচাতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পুরোটা। ছবি:গেটি ইমেজ

    বৃষ্টিতে মাঠ বাঁচাতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পুরোটা। ছবি:গেটি ইমেজ

    এরপর আবার কিছুটা বিরতি। আবহাওয়া ধুম মেরে থাকলেও ভোর পর্যন্ত ঝরেনি বৃষ্টি। কিন্তু ভোর হতে সেই আগের অবস্থাই। আবারো হাজির প্রকৃতির কান্না। এ যাত্রাতেও কিছুক্ষণ ঝরলো। আবার বিরতি ১২ মার্চ বেলা ১১টা থেকে যে শুরু হয়েছে থামেনি এখনো। এ ‘ধর্মহীন’ বৃষ্টি যে কখন থামতে তার কোনো হদিস মিলছে না। তাই ১১ মার্চের মতো ওমানের সাথে পরের ম্যাচ নিয়েও চিন্তায় থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। অবশ্য শুধু বাংলাদেশই নয় ধর্মশালার ধর্মহীন বৃষ্টির দাপটে অসহায় থাকতে হচ্ছে চার দলকেই।