Breaking News

ধনশালী হতে চান? তবে এই অভ্যাসটি আয়ত্ত করুন!




  • প্রিয় পাঠক, জানেন কি বিশ্বের সকল সফল ধনশালী ব্যক্তিদের মাঝে একটি বিষয়ে মিল পাওয়া যায় আর সে বিষয়টা কী? তাদের উচ্চ বুদ্ধিমত্তা কিংবা অবিশ্বাস্য ভাগ্য নয়, তা খুব সাধারণ একটি অভ্যাস, ‘বই পড়ার অভ্যাস’। আসুন ছোট্ট একটা গল্প বলি

    ২ ডলার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রস্কার একটি শহর ওমাহা। সেখানকার এক মুদির দোকানে ২ জন কমবয়সী বালক কাজ করত। বড় ছেলেটি একটা গরিব পরিবার থেকে এসেছিল যে ইঁদুর পালন করে বাজারে বিক্রি করত। আর ছোট ছেলেটি ছিল ঐ মুদি দোকানীর নাতি যে চুইংগাম, কোক ইত্যাদি দ্বারে দ্বারে বিক্রি করত। এই কাজগুলোর বিনিময়ে ছেলে দুটি প্রতিদিন ২ ডলার করে পেত। অবিশ্বাস্য মনে হলেও মাত্র কয়েক দশক পর তারা প্রতি বছর লাভ হিসেবে ২০ বিলিয়ন ডলার আয় করা শুরু করে। জানেন, ছেলে দুটি কে ছিল? তারা আর কেউ নন,একজন চার্লি মুঙ্গার, আমেরিকান বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও বিশ্বপ্রেমিক এবং আরেকজন ওয়ারেন বাফেট আমেরিকার ধনশালী ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও বিশ্বপ্রেমিক।

    এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে তারা আমেরিকার সফল ধনকুব ব্যবসায়ীতে পরিণত হলেন?

    ২০০৭ সালে ফাস্ট্র্যাকের এক আর্টিকেলে চার্লি মুঙ্গার তার সফলতার পেছনের গল্পটি জানান। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিনিয়ত এমন মানুষগুলোকে জীবনে উন্নতি করতে দেখেছি যারা ততটা স্মার্ট না, এমনকি পরিশ্রমীও না। কিন্তু হ্যাঁ, তারা শেখার মেশিন। তারা প্রতিদিন যে বুদ্ধি নিয়ে ঘুম থেকে ওঠে তার চেয়ে একটু বেশি বুদ্ধি নিয়ে রাতে ঘুমোতে যায় এবং এটাই তাদেরকে জীবনে সফল হতে সহায়তা করেছে।’

    বিনিয়োগ ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বাফেট প্রতিদিন ৬০০-১০০০ পৃষ্ঠার বই পড়ত। আর এখন তো তাঁর দিনের ৮০ ভাগই কাটে বই পড়ে। তিনি সবাইকে এই উপদেশই দেন যে, ‘জীবনের মোড়ে তুমি যেখানেই থাকো না কেন, প্রতিদিন বই পড়ো, শেখো এবং জীবনে সফল হও।’

    শুধু চার্লি মুঙ্গার এবং ওয়ারেন বাফেট-ই নন যারা বই পড়ে জীবনে সফল হয়েছেন। টেক উদ্যোক্তা এলোন মাস্ক-ও বই পড়েই জেনেছিলেন কীভাবে রকেট তৈরি করা যায়। মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকায় ছোট বয়সে অনেক নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর সে সময় থেকেই ফ্যান্টাসী এবং সায়েন্স ফিকশনের বই পড়তে ভালো লাগতো যেগুলো তাকে শিখিয়েছিল পৃথিবীতে দীর্ঘজীবী হতে হলে ভালো কিছু কাজ করে যেতে হবে।

    বিল গেটস, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি এবং তিনিও বই পড়তে ভালোবাসেন। তিনি প্রতি বছরে কম করে হলেও ৫০ টির মতো বই পড়েন। যদিও তিনি পৃথিবীর সর্বাধিক জায়গা ঘুরে দেখেছেন এবং বিভিন্ন মানুষের সাথে মিশেছেন তারপরও তিনি যেকোনো জ্ঞান আহরণ করতে চাইলেই বই পড়তে বসে যান।

    একইভাবে জাকারবার্গ-ও বই পড়তে অসম্ভব ভালোবাসেন এবং পুরো বিশ্বকে বই পড়ার আহ্বান জানান।

    প্রিয় পাঠক, এবার আপনার বই পড়ার অভ্যাস সম্পর্কে বলুন।

    আজ রাতে বিছানায় ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিজেকে একটু জ্ঞানী করতে চান তো? তাছাড়া জীবনে ধনশালী আর সফল ব্যক্তি হতে চান? তাহলে আর দেরি কেন? হাতে নিয়ে ফেলুন পছন্দের বইটি আর রাতটাকে উপভোগ করুন নিজের মতো করে।

    সূত্র: বিলিঙ্কিস্ট