Breaking News

জুলাই থেকে আবারও কর্মী ছাঁটাই শুরু করছে গ্রামীণফোন







  • ঈদ পরবর্তী আগামী জুলাই মাস থেকে আবারও কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। গত ২৬ মে নিয়োগপ্রাপ্ত অপারেটরটির নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল ফোলি গত ১৩ জুন মঙ্গলবার তাঁর প্রথম টাউন হলে এই ঘোষণা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    জানা গেছে, ১৩ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম টাউন হলে মাইকেল ফোলি এক ঘোষণায় বলেন, ‘গ্রামীণফোনে আগামী জুলাই মাসে নতুন ভলেন্টারি সেপারেশন স্কিম (ভিএসএস) বা স্বেচ্ছায় অবসর স্কিম ঘোষণা করা হবে। যারা এই স্কিমের আওতায় চলে যেতে চান তারা ১ জুলাই থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।’

    তবে এবারের ভিএসএস-এর আওতায় ঠিক কী পরিমাণ কর্মী ছাঁটাই করা হবে সে ব্যাপারে তিনি কোনো ধারণা দেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামীণফোনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রিয়.কমকে জানিয়েছেন, এবার প্রায় পাঁচ শতাধিক কর্মীকে বিদায় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অপারেটরটির।

    অপারেটরগুলোতে ভলেন্টারি সেপারেশন স্কিমে ‘বিশেষ সুবিধা’র নামে যে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয় সেটি এখন পর্যন্ত ঘোষণা করেনি গ্রামীণফোন। তবে ঈদের পরপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে গ্রামীণফোন সূত্রে জানা গেছে। প্যাকেজে কি কি বিষয় আসতে পারে সে বিষয়গুলো নিয়ে এখন কাজ চলছে বলে এই সূত্র জানিয়েছে।

    নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় গ্রামীণফোন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের (জিপিইইউ) একজন নেতা প্রিয়.কমকে বলেন,  ‘প্রতিবার কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি আলোচনায় আসলে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকে ইউনিয়নের কর্মীরা। টপ ম্যানেজমেন্ট সবার আগে এই ইউনিয়নকে দুর্বল করতে টার্গেট করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না হয়তো।’

    প্রতিষ্ঠানকে আরও লাভজনক করতে ব্যয়সংকোচন নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামীণফোন। আর তাই কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে গ্রামীণফোন কর্মীদের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে বলেও সূত্র জানিয়েছে। গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে দেশে বিপুল লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এরমধ্যে কিছু অতিরিক্ত জনবলও রয়েছে। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই অতিরিক্ত এই জনবল কমিয়ে আনা হচ্ছে।

    সর্বশেষ গত বছরের ৯ জুন ভিএসএস ঘোষণা করে অপারেটরটি। স্বেচ্ছা অবসর নিতে আগ্রহী কর্মীদের ১৫ জুনের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়। সেখানে সব মিলে ৩২০ জন কর্মীকে বিদায় জানানো হয়। এর ঠিক এক বছর পর নতুন সিইও এসে আবারও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিলেন।

    প্রসঙ্গত, ২০০৭-০৯ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোনের কর্মী ছিল ৫ হাজারের মতো। ২০০৯ সালে এসে ১২ শতাধিক কর্মী ছাঁটাই করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে গ্রামীণফোন। ২০১২ সালে এসে আরো তিন শতাধিক কর্মী ছাটাই করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে নানা ঝামেলা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত একটি ইউনিয়ন গড়ে ওঠে। ২০১৩ সালে গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল গড়ে ওঠে। ওই বছর ১৮৮ জনকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানো হয়।

    ২০১৪ সালে কোনো সমস্যা হয়নি। ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল ৪ থেকে ১০টি বেসিক বেতন দিয়ে ২৮ জনকে বিদায় দেয়া হয়। ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত গ্রামীণফোনে ছিলেন ২ হাজার ৯৬৮ জন কর্মী। সেখান থেকে ৩২০ জন কর্মীকে বিদায় জানানো হয়। এর মধ্যে নানান সময়ে আরও কিছু কর্মী চলে গেছেন। এখন অপারেটরটিতে আড়াই হাজারের মতো কর্মী রয়েছে।