Breaking News

আকাশের দিকে মেলে আছে এ কার হাত?






  • বিশাল এই পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু আতাকামা মরুভূমি এমন এক জায়গা, যেখানে হারিয়ে যাওয়া মানে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া। একের পর এক বিরান বালিয়াড়ি, ছোট ছোট পাহাড় আর পাথরের সমাহারে এই জায়গাটা পৃথিবীর সবচাইতে নিষ্প্রাণ এবং সবচাইতে শুষ্ক এলাকা।

    ১২৮,০০০ বর্গ কিলোমিটারের এই মরুভূমি দেখে মনেই হতে পারে তা আসলে পৃথিবীর কোনো জায়গা নয়, মঙ্গল গ্রহ বা চাঁদের একটা টুকরো। মঙ্গল গ্রহ বা চাঁদে মানুষের যাত্রা নিয়ে এখানে চট করে একটা মুভি তৈরি করে ফেলা যায়! আসলে কিন্তু এখানে তেমন কোনো মুভি তৈরি হয় না। কারণ কী জানেন? কারণ এখানে বিশ্রী আবহাওয়া।

    নাসার কিছু গবেষণা থেকে দেখা যায়, এই এলাকায় বছরে গড়ে মাত্র এক মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর বৃষ্টি ছাড়াই কেটে যায়। আর এখানে কিছু কিছু জায়গা আছে যেখানে কষ্মিকালেও বৃষ্টি হয়নি। শুধু তাই নয়, এখানের তাপমাত্রাও খুবই উদ্ভট। দিনের বেলায় কাঠফাটা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস, আর রাত নেমে এলেই হাড় কাঁপানো ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা যায় এখানে! এসব কারণে এই এলাকায় বেশি সময় ধরে থাকাটা কারো পক্ষেই সম্ভব হয় না।

    কিন্তু এই ভয়াবহ এলাকাতেও একটা সময় মানব সভ্যতা ছিল। ১৯১৭ সালে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ ম্যাক্স ঊলে জানতে পারেন এই এলাকাতেও ছিল এক জনগোষ্ঠী। তারা মাছ ধরে, শিকার করে এবং খাবার সংগ্রহ করে টিকে থাকতো। দক্ষিণ পেরুতে চিঞ্চোরো নামের এই জনগোষ্ঠী টিকে ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০০ থেকে ১৫০০ সালের মাঝে। মিশরের মমিদের চাইতেও কয়েক হাজার বছরের পুরনো মমি পাওয়া যায় এখানে।

    বর্তমান সময়ে মানুষ তো দুরের কথা, অন্যান্য প্রাণীরও তেমন একটা দেখা মেলে না আতাকামা মরুভুমিতে। তবে এখানে আপনি দেখতে পাবেন আকাশের দিকে মেলে থাকা বিশাল এক হাত, যেন প্রার্থনা করছে বৃষ্টির জন্য। আন্তোফাগাস্তা শহরের থেকে ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণেএকটি পাথুরে রাস্তা দিয়ে গেলে ১১ মিটার লম্বা এই হাত পাওয়া যায়, যা বের হয়ে এসেছে বালি-পাথরের এই মরুভূমি থেকে। চিলির ভাস্কর মারিও ইরারাজাবেলের তৈরি এই ভাস্কর্যের নাম লা মানো ডেল ডেসিয়ার্টো বা “মরুভুমির হাত”।

    আন্তোফাগাস্তার মানুষেরা মূলত খনিতে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রচন্ড কষ্টের এই জীবনকে তুলে ধরতেই মূলত এই ভাস্কর্য তৈরি করেন তিনি। মনে হয় এই হাতের নিচে আছে বালিতে আটকে থাকা এক মানুষ, যে আকাশের দিকে হাত মেলে সাহায্য প্রার্থনা করছে।

    শহর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে এই হাত। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এমন ভয়াবহ এলাকায় শহর থেকে এত দূরে কী করে ভাস্কর্য তৈরি করলেন শিল্পী? মাইলের পর মাইল ধু ধু প্রান্তর, এর মাঝে একাকী এই হাত, যার কাজ শেষ হয় ১৯৯২ সালে।

    মরুভুমির মাঝে থাকা এই হাতটি বাম হাত। এর ডান হাতটি আছে এর থেকে ১,২০০ মাইল পূর্বে, পান্টা ডেল এস্তো সমুদ্রতীরে। একই শিল্পীর তৈরি  সেই হাতটির নাম “ম্যান ইমার্জিং টু লাইফ”। এর আরো জনপ্রিয় একটি নাম হলো “মনুমেন্ট টু দা ড্রোওনড”।

    দুইটা হাতের কথা একসাথে চিন্তা করলে চমৎকার এক দৃশ্য ভেসে ওঠে মনে। মাটির নিচে থাকা এক দৈত্যের কথা মনে হয় যে দুই হাতে ধরে আছে পুরো দক্ষিণ আমেরিকাটাকে।

    সূত্র: দ্যা ভিন্টেজ নিউজ