Breaking News

অদ্ভুত কিছু কারণে ওজন নিয়মিত ওঠানামা করে




  • আপনার ওজন যদি ওঠানামা করে তাহলে আপনার খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ইত্যাদি নিয়ে চিন্তিত হতেই পারেন আপনি। কারণ এগুলো ওজন বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। তবে চিন্তা করা বাদ দিন কারণ ওজন ওঠানামা করা খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। আপনার এটা বোঝা প্রয়োজন যে, আপনি যখন ওজন মাপবেন তখন শুধু পেশী ও ফ্যাটেরই ওজন মাপা হয় না। এতে আপনার হাড়ের ওজন, বডি ফ্লুয়িড, গ্লাইকোজেন এবং পরিপাক নালীর বর্জ্যের ওজনও থাকে, যা বাদ দেয়া যায়না। পানি, ফ্যাট, হাড়, টেন্ডন, লিগামেন্ট, অঙ্গ এবং অন্য যেকোন ভর আমাদের শরীরের অংশ যা ওজনের সাথে সম্পর্কিত। আমাদের শরীরের ৬০ শতাংশই পানি, আর পানির কমা বাড়ার কারণেও হয়ে থাকে ওজনের পরিবর্তন। ওজন ওঠানামা করার কারণগুলোর বিষয়ে জেনে নিই চলুন।

    ১। শরীর যখন পানি ধরে রাখে  

    আপনার শরীরে কী পরিমাণ পানি জমা হয়ে থাকে তার উপরও নির্ভর করে আপনার ওজন বৃদ্ধি পাওয়া। যদি আপনার খাবারে সোডিয়াম এর পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে শরীরে পানি জমা হতে পারে, যা আপনার ওজন বৃদ্ধি করতে পারে।

    ২। হরমোনের পরিবর্তন

    হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও ওজন ওঠানামা করতে পারে। পিরিয়ডের সময় পানি জমা হওয়া ও পেট ফাঁপার কারণে ওজনের স্কেলে পরিবর্তন হতে পারে। সেই সময়ে ওজন কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। ইস্ট্রোজেনের বৃদ্ধির ফলে এল্ডোস্টেরনের মাত্রার বৃদ্ধি হয়। এ কারণে কিডনিতে তরল জমা হয় এবং ওজন বৃদ্ধি পায়।

    ৩। কোষ্ঠকাঠিন্য

    মল জমা হয়ে থাকার কারণেও ওজন বৃদ্ধি পায়। সাধারণত প্রতিদিন ১২৫-১৭৫ গ্রাম মল তৈরি হয়। মল নির্গমনের অভ্যাস ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। তবে যদি আপনি তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন তাহলে আপনার ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। তখন অন্ত্রে ও মলাশয়ে মল জমা হয়ে থাকে বলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়। যদি আপনার এই সমস্যাটি দূর হয়ে যায় তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ওজন কমে যাবে।

    ৪। ব্যায়াম

    ব্যায়াম করলে ঘাম হয় বলে ওজন কমে। তীব্র ব্যায়াম করার সময় বিশেষ করে কার্ডিও ব্যায়াম করলে প্রতি ঘন্টায় ২৫ থেকে ৪০ আউন্স তরল বের হয়ে যায়। কখনো কখনো এই সংখ্যাটি অন্য বিষয় যেমন – আবহাওয়ার কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। যখন ঘামের মাধ্যমে তরল বের হয়ে যায় তখন ওজনের স্কেলে পার্থক্য দেখা যায়। তরল কমে যাওয়ার কারণেও শরীরে পানি জমা হতে পারে! এর কারণ আপনার পেশী পানি ধরে রাখে। এমনকি স্ট্রেন্থ ট্রেনিং এর সময়ও আপনার পেশীতে পানি জমা হতে পারে পেশীর ক্ষতি প্রতিহত করার জন্য।

    ৫। অ্যালকোহল পান করা

    অ্যালকোহল ডিইউরেটিক পানীয়। তাই অ্যালকোহল পান করলে যদি ঘন ঘন প্রস্রাব হয় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবেই ওজন কমার কথা। অ্যালকোহল গ্রহণ করার পরে ২০ মিনিটের মধ্যে প্রস্রাবের প্রবাহ সৃষ্টি হয় যার ফলে শরীর থেকে তরল কমে যাওয়ার পাশাপাশি তরল জমাও হতে থাকে। আপনি যে পানীয় পান করেন তা আপনার শরীরে জমা হতে পারে।  

    ৬। ডিহাইড্রেশন

    ডিহাইড্রেশনের কারণেও ওজন বৃদ্ধি পায়। এটি শুনে হয়তো আপনি অবাক হচ্ছেন, তাই না! টিস্যুতে যখন পানি কমে যায় তখন ওজন কমে যাওয়ার কথা। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে আপনার শরীরে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। আপনি যখন ডিহাইড্রেট অবস্থায় থাকবেন তখন আপনার শরীর টিকে থাকার জন্য বা পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য পানি জমানো শুরু করে। তাই পানিশূন্যতায় থাকা অবস্থায় আপনার শরীর পানি সঞ্চয়ের জন্য বেশি কাজ করে বলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

    সূত্র: বোল্ড স্কাই